Insight Islamic School & College এর ভর্তি ফি ও বেতন তুলনামূলক বেশি কেন?
অনেক অভিভাবক আমাদের একটি প্রশ্ন করেন-
“ইনসাইট ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন অন্যান্য অনেক স্কুলের তুলনায় বেশি কেন?”
প্রশ্নটি খুবই স্বাভাবিক। আর আমরা মনে করি, একজন #অভিভাবকের এই প্রশ্নের উত্তর জানার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
তাই আসুন, একটু ভিন্নভাবে হিসাবটা করি।
আপনি আসলে কী কিনছেন?
একটি সাধারণ #স্কুলে সাধারণত আপনার সন্তানকে মূলত জেনারেল শিক্ষার ওপরই পড়ানো হয়। কোথাও আরবি পড়ানো হলেও সেটি অনেক সময় সীমিত পরিসরে বা নামমাত্র।
অন্যদিকে, ইনসাইট ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে আমরা দুটি #শিক্ষাধারা একসঙ্গে পরিচালনা করি।
একদিকে-
জেনারেল শিক্ষা
এনসিটিবি তথা বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়-আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।
অন্যদিকে রয়েছে একটি স্বতন্ত্র ইসলামিক ও আরবি শিক্ষা কারিকুলাম।
এখানে শুধু আরবি বর্ণমালা বা কিছু দোয়া শেখানো হয় না। বরং ধারাবাহিকভাবে পাঠদান করা হয়-
১. শুদ্ধ কোরআন শিক্ষা
২. ফিকাহ
৩. আকিদা
৪. সিরাত
৫. আরবি ভাষা
অর্থাৎ, আপনার সন্তান একই প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে জেনারেল শিক্ষা ও দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করছে।
তাহলে খরচ বেশি হওয়ার কারণ কী?
দুটি আলাদা শিক্ষাধারা মানে শুধু দুটি বই নয়।
এর অর্থ হলো-
দুই ধরনের বিষয়ের জন্য দক্ষ #শিক্ষক, আলাদা প্রস্তুতি, ক্লাস পরিচালনা, পাঠ পরিকল্পনা, মূল্যায়ন এবং একটি সমন্বিত একাডেমিক ব্যবস্থাপনা।
একজন জেনারেল বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে #আরবি, ফিকাহ, আকিদা, সিরাত ও কোরআন শিক্ষার পুরো দায়িত্ব পালন করানো সম্ভব নয়।
আবার একজন আরবি বা ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষকও বাংলা, #ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞানসহ জেনারেল শিক্ষার সব বিষয় কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন না।
তাই স্বাভাবিকভাবেই দুটি #শিক্ষাধারা পরিচালনার জন্য বেশি সংখ্যক ও বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক প্রয়োজন।
এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন #ফ্যাসিলিটি, সহশিক্ষা কার্যক্রম, নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা-ব্যবস্থা তৈরি করতেও অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন।
এবার আপনার নিজের হিসাবটা করুন
ধরুন, আপনি কম #বেতনের কারণে একটি সাধারণ স্কুলে আপনার সন্তানকে ভর্তি করালেন।
সেখানে আপনার সন্তান #জেনারেল শিক্ষা পেল।
কিন্তু আপনি চান সে শুদ্ধ কোরআন পড়ুক, ফিকাহ জানুক, আকিদা শিখুক, রাসুল ﷺ-এর জীবন ও আদর্শ জানুক এবং আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করুক।
তাহলে কী করবেন?
#আরবি ও দ্বীনি শিক্ষার জন্য আলাদা শিক্ষক/প্রাইভেট টিউটর রাখতে হবে।
অর্থাৎ—
সাধারণ স্কুলের বেতন
+ আরবি শিক্ষক/প্রাইভেট টিউটরের খরচ
+ অতিরিক্ত সময় ও যাতায়াত
+ বিভিন্ন আলাদা কোর্সের খরচ
সবকিছু মিলিয়ে মাস শেষে আপনার প্রকৃত ব্যয় কত দাঁড়ায়-একবার হিসাব করে দেখুন।
আর এখানেই রয়েছে #ইনসাইটের পার্থক্য।
আমরা সেই শিক্ষাগুলোকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে এসেছি।
তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আছে
একজন প্রাইভেট টিউটর দিয়ে হয়তো আপনার সন্তানকে কিছু আরবি শব্দ, কয়েকটি সূরা বা কিছু দ্বীনি বিষয় শেখানো সম্ভব।
কিন্তু কোরআন, ফিকাহ, আকিদা, সিরাত ও আরবি ভাষা—এই পাঁচটি বিষয়ে ধারাবাহিক ও কাঠামোবদ্ধ শিক্ষা দেওয়া শুধু একজন ব্যক্তিগত শিক্ষকের দায়িত্বে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।
কারণ শিক্ষা শুধু কয়েকটি বিষয় পড়ে #পরীক্ষায় পাস করার নাম নয়।
শিক্ষা হলো একটি শিশুর জ্ঞান, চিন্তা, চরিত্র, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শন গড়ে তোলা।
তাই ইনসাইটের ফি-কে শুধু “স্কুলের বেতন” হিসেবে দেখবেন না
আপনি যদি শুধু জেনারেল শিক্ষা চান, তাহলে অবশ্যই অনেক কম খরচের বিকল্প বাজারে পাবেন।
কিন্তু আপনি যদি চান-
আপনার সন্তান আধুনিক #জ্ঞান-বিজ্ঞানে শিক্ষিত হবে, একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর মৌলিক জ্ঞান অর্জন করবে;
জেনারেল শিক্ষায় এগিয়ে থাকবে, আবার দ্বীনি শিক্ষাতেও ভিত্তি শক্ত হবে;
শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করবে না, বরং একজন জ্ঞানী, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে-
তাহলে আপনার তুলনাটাও হতে হবে সঠিক জায়গায়।
একটি সাধারণ স্কুলের বেতন বনাম ইনসাইটের বেতন-এটা সঠিক তুলনা নয়।
সঠিক তুলনা হলো-
সাধারণ স্কুল + আলাদা দ্বীনি/আরবি শিক্ষা
বনাম
একটি সমন্বিত পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যবস্থা।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা শুধু-
“কত টাকা খরচ হচ্ছে?”
প্রশ্ন হওয়া উচিত-
“এই খরচের বিনিময়ে আমার সন্তান কী পাচ্ছে?”
আমাদের বিশ্বাস, একজন অভিভাবক যখন পুরো চিত্রটি দেখবেন, তখন ইনসাইট ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফি-কে শুধু “বেশি” মনে হবে না; বরং বুঝতে পারবেন—এর পেছনে একটি ভিন্ন ধরনের শিক্ষা-ব্যবস্থা পরিচালনার বাস্তব ব্যয় রয়েছে।
ইনসাইট ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ
ইসলামিক পরিবেশে জেনারেল শিক্ষা-জ্ঞান, চরিত্র ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ার প্রত্যয়ে।